icon/64x64/livelihoods জীবিকা

ফটো প্রতিবেদন: বন বাঁচাতে লড়ছে বাংলাদেশের আদিবাসী সম্প্রদায়

শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে আদিবাসী গারো ও কোচ সম্প্রদায় দেশের মুধুপুর বনের অভ্যন্তরে বাস করে এলেও নতুন আইন পাশের মধ্য দিয়ে জঙ্গলে তাদের প্রবেশাধীকার নিষিদ্ধ করা হচ্ছে, অথচ সামাজিক বনায়নের মাধ্যমে দিন দিন উজাড় হচ্ছে বনভূমি।

সম্পদাকীয় বক্তব্য: মধুপুর বনভূমি একসময় বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শাল বন হিসেবে পরিচিত ছিল। শাল গাছের আধিক্য থাকায় এই বনের নাম শাল বন। গত তিন দশক যাবত এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক-এর (এডিবি) অর্থায়নে উত্তরপশ্চিম বাংলাদশে অবস্থিত মধুপুর জাতীয় উদ্যানে নেয়া বিভিন্ন সংরক্ষন প্রকল্পের মধ্য দিয়ে এখানে ব্যাপক ভিত্তিতে বনভূমি উজাড় চলতে থাকে। সেই সঙ্গে চলতে থাকে বনের অভ্যন্তরে বসবাসকারী আদিবাসী সম্প্রদায়ের অধিকার হরণ এবং ভূমি নিষ্পত্তি।

সংরক্ষণ প্রকল্পের কথা বলে কৃষিভিত্তিক বনায়ন এবং এক ফসলী চারা রোপনের মধ্য দিয়ে একটি প্রাকৃতিক বনে ধীরে ধীরে একটি বাণিজ্যিক বনায়নের সূত্রপাত হয়।  সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির আওতায় ইউক্যালিপটাস এবং একাশিয়ার মতো এলিয়েন স্পেসিস বা ভিন্ন পরিবেশ থেকে নিয়ে আসা বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষ এই বনে রোপনের মাধ্যমে বনের সার্বিক জীববৈচিত্র্য এবং বনে বসবাসরত আদিবাসী সম্পদ্রায়ের খাদ্য নিরাপত্তায় অত্যন্ত নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। এর ফলে আদিবাসী জনগনের মধ্যে দেখা দেয় নানা ধরনের স্বাস্থ্যগত সমস্যা। গত প্রায় তিন দশকে এই প্রক্রিয়া চলমান থাকায় এখানকার প্রাকৃতিক বনভূমি তার মূল আকার থেকে কমে মাত্র এখন ১৮ শতাংশ বেঁচে আছে। 

এখানকার আদিবাসী গারো এবং কোচ সম্প্রদায় আজকের দিনে এই ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতির ফল ভোগ করছে। চলতি বছর মার্চ মাসে একজন সাংবাদিক মধুপুরের এই বনে প্রায় দুই সপ্তাহ অবস্থান করেন। এই প্রতিবেদন তৈরীর লক্ষ্যে তিনি প্রায় ১২ জন ব্যক্তির সাক্ষাতকার গ্রহন করেন  যাদের মধ্যে রয়েছে বনের ভিতরে বসবাসরত স্থানীয় সম্প্রদায়ের সদস্য, কয়েকজন কর্মী এবং বিশেষজ্ঞ।

যে প্রতিবাদের সমাপ্তি হয় রক্তপাতে

 ‘আহ, বেশ বড় একটি শুকর ধরলাম। আজকের ভূড়িভোজ বেশ ভালোই হবে মনে হচ্ছে’, পুলিশের এক সদস্য বলছিল কথাগুলো। ভ্যানে বসা বনের প্রহরী আর পুলিশ সদস্যরা হাসছিলেন তখন।

দিনটির কথা ভলোই মনে আছে উৎপল নোকরেকের। সেদিন পুলিশের ভ্যানটিতে রক্তাক্ত অবস্থায় তিনিই শুয়ে ছিলেন। বয়স তখন মাত্র ১৮ বছর। উৎপলের বুলেট বিদ্ধ পিঠ থেকে  রক্ত ঝরছিল অনবরত।

নিজ বাড়িতে উৎপল নোকরেক। ১৭ বছর আগে ছাত্র নোকরেকের শরীরে যর বুলেট বিদ্ধ হয়েছিল তার প্রভাবে সেই তখন থেকেই পক্ষাঘাতগ্রস্থ্য নোকরেক [ছবি: প্রকাশ ভূইয়া] 
নিজ বাড়িতে উৎপল নোকরেক। ১৭ বছর আগে ছাত্র নোকরেকের শরীরে যর বুলেট বিদ্ধ হয়েছিল তার প্রভাবে সেই তখন থেকেই পক্ষাঘাতগ্রস্থ্য নোকরেক [ছবি: প্রকাশ ভূইয়া]
‘চালের বস্তার মতো পুলিশ ভ্যানের ভিতরে তারা আমাকে ছুঁড়ে মেরেছিল। আঁছড়ে পড়ার সঙ্গ সঙ্গেই পিঠে তীব্র ব্যথা অনুভব করি। আমার মনে হচ্ছিল আমি মারা যাচ্ছি’। গত মার্চ মাসে এই প্রতিবেদকের কাছে ১৭ বছর আগের সেই দুঃসহ স্মৃতির কথা এভাবেই তুলে ধরেন উৎপল।

জানুয়ারি ৪, ২০০৪ সাল। হাজার হাজর বিক্ষোভকারী জড় হয়েছে মধুপুর জঙ্গলের জলবাধ এলাকায়। দেশের রাজধানী ঢাকা থেকে ১২৫ কিলোমিটার দুরের এই বনের সামনে বিক্ষোভে ফেটে পড়া এই মানুষগুলো সেদিন জড়ো হয়েছিল একটি দেয়াল নির্মানের প্রতিবাদে।

প্রতিবাদী এসব মানুষের মধ্যে বেশিরভাগই ছিলেন গারো ও কোচ সম্প্রদায়ের লোকজন। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ি ওই দেয়ালটি তৈরি হলে বিশাল এই আদিবাসী পরিবারগুলোর জন্য মুক্তভাবে মধুপুর জঙ্গলে প্রবেশের পথ বন্ধ হয়ে যাবে। অথচ বংশ পরম্পরায় এই জঙ্গলই ছিল তাদের আবাস। তারা এই আন্দোলনের নাম দিয়েছিলেন আবিমা। গারো ভাষায় আবিমা শব্দটির অর্থ হচ্ছে ‘সব ভূমির মা’।

মধুপুর জঙ্গলকে ঘিরে একটি ইকো-পার্ক তৈরির জন্য এফডিবি-র পরিকল্পনা অনুযায়ি বনের ৩০০০ একর জায়গাকে ঘিরে ১০ ফুট (৩ মিটার) উঁচু এবং ৬১,০০০ ফুট (১৮.৫৯০ মিটার) দীর্ঘ একটি দেয়াল নির্মান করা হবে। এর উদ্দেশ্য হচ্ছে বনের ভিতরের বন্য প্রাণী ও অন্যান্য বনজ সম্পদ রক্ষা করা। এই দেয়ালটি নির্মান করা হলে বনের আশেপাশের সাতটি গ্রামের অধিবাসী বন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে। বনে মুক্তভাবে প্রবেশের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা তৈরির একটি উদ্দেশ্য নিয়েই এই প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে তাদের ধারনা। মধুপুরের এই বিশাল বনকে তারা তাদের পূর্বপুরুষের ভূমি হিসেবে মনে করে থাকেন বনের উপর নির্ভরশীল এসব মানুষ।

উৎপল মধুপুর বনের অভ্যন্তরে জয়নাগাছা নামের একটি গ্রামে বসবাস করেন যেখানে বিদ্যুৎ সংযোগের মতো বিষয় আজও স্বপ্নের মতো শোনায়।

একসময় বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শালবন হিসেবে পরিচিত ছিল এই মধুপুর যার আয়তন ছিল (১৯৬২ সালের রেকর্ড অনুযায়ি) ,৮২৬ হেক্টর। আর গত ২০০৩ সালের এক হিসেব অনুযায়ি বিশাল এই বনভূমি আয়তন কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৬০০ হেক্টরে। একসময় এই বনে অবাধে বিচরণ করা বহু বন্য প্রানী (বাঘ, চিতাবাঘ, হাতি, ভালুক এবং চিত্রা হরিণ) এখন পুরোপুরি বিলুপ্ত। [ছবি: প্রকাশ ভূইয়া]

সেদিনের সেই মিছিলটিকে আটকে দিয়েছিল বন বিভাগের কর্মকর্তা, আর্মড পুলিশ ও ফরেষ্ট গার্ড। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ি মিছিলে বিক্ষোভকারীদের উপরে হঠাৎ করেই গুলি বর্ষণ শুরু করে পুলিশ ও ফরেষ্ট গার্ডের যৌথ বাহিনী।

এসময় পিরেন স্নাল নামের ২৮ বছরের এক যুবক ঘটনাস্থলেই প্রান হারান। এই যুবকের বাড়ি মধুপুর জঙ্গলের ভিতরে জয়নাগাছা গ্রামে। নিজেন নোকরেকের (পিরেন স্নালের বাবা) পরিবারে তার ছেলেই (পিরেন) ছিল একমাত্র উপার্জনক্ষম।

ওই ঘটনায় উৎপলসহ আরো প্রায় ২০ জনের উপরে আহত হয়। নিজের পিঠে বিদ্ধ হওয়া বুলেট অপসারণ করার আগেই ঘাতক বুলেট তার মেরুদন্ডে মারাত্বক ক্ষতির সৃষ্টি করে। সেই থেকে উৎপলের শরীরের নিম্নাংশ পক্ষাঘাতগ্রস্থ্য।

সরকারী কাজে বাঁধা দেয়ার অভিযোগে বন বিভাগ যৌথ বাহিনীর গুলিতে নিহত পিরেন স্নালসহ বেশ কয়কেজন বিক্ষোভকারীর বিরুদ্ধে প্রায় ৩,৭০০টি মামলা দায়ের করে।

ইকো-পার্ক আন্দোলন নামে এখনও পরিচিত সেদিনের সেই ঘটনায় যৌথ বাহিনীর গুলিতে স্নালের মৃত্যুর পর সরকার প্রস্তাবিত সেই দেয়ালের নির্মান কাজ অনির্দিষ্ট কালের জন্য বন্ধ করে দেয়।

একসময় বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শালবন হিসেবে পরিচিত ছিল এই মধুপুর যার আয়তন ছিল (১৯৬২ সালের রেকর্ড অনুযায়ি) ৩,৮২৬ হেক্টর। আর গত ২০০৩ সালের এক হিসেব অনুযায়ি বিশাল এই বনভূমি আয়তন কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৬০০ হেক্টরে। একসময় এই বনে অবাধে বিচরণ করা বহু বন্য প্রানী (বাঘ, চিতাবাঘ, হাতি, ভালুক এবং চিত্রা হরিণ) এখন পুরোপুরি বিলুপ্ত। [ছবি: প্রকাশ ভূইয়া]
একসময় বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শালবন হিসেবে পরিচিত ছিল এই মধুপুর যার আয়তন ছিল (১৯৬২ সালের রেকর্ড অনুযায়ি) ৩,৮২৬ হেক্টর। আর গত ২০০৩ সালের এক হিসেব অনুযায়ি বিশাল এই বনভূমি আয়তন কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৬০০ হেক্টরে। একসময় এই বনে অবাধে বিচরণ করা বহু বন্য প্রানী (বাঘ, চিতাবাঘ, হাতি, ভালুক এবং চিত্রা হরিণ) এখন পুরোপুরি বিলুপ্ত। [ছবি: প্রকাশ ভূইয়া]
জঙ্গলের গভীরে, অনেক গাছের মধ্যে নিহতের স্মরনে নির্মিত খিম্বা যেন আজ সেদিনের সেই নৃশংসতার সাক্ষ্য হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে। কংক্রিটে তৈরি গারো জনগোষ্ঠীর নিজস্ব ‘দাও ও ধাল’ যেন সেদিনের ঘটনারই বর্ণনা দিচ্ছে।

যে লড়াই চলছে বহুদিন

নিজেদের ভূমির জন্য লড়াই গারোরা বহুদিন থেকেই করে আসছে। এই আন্দোলন ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার বহু আগে যখন এই দেশটি পাকিস্তানের অন্তর্ভূক্ত ছিল। ১৯৫০ সালে তৎকালীন পাকিস্তান সরকার ভূমি অধিগ্রহন আইন নামে নতুন একটি আইন পাশ করে যার ফলশ্রুতিতে দেশের সকল প্রাকৃতিক বনভূমি সরকারের নিজস্ব সম্পদে অধিভূক্ত হয়।

মধুপুর ইকো-পার্কে নির্মানের জন্য প্রস্তাবিত দেয়ালের ছবি। ২০০৪ সালে এই দেয়ালটি নির্মানের প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধ স্থানীয় আদিবাসীদের মিছিল প্রতিহত করতে যৌথ বাহিনীর গুলিতে পিরেন স্নাল নিহতসহ আরো ২০ জন আহত হলে সরকার দেয়ালটির নির্মানকাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছে [ছবি প্রকাশ ভূইয়া]
মধুপুর ইকো-পার্কে নির্মানের জন্য প্রস্তাবিত দেয়ালের ছবি। ২০০৪ সালে এই দেয়ালটি নির্মানের প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধ স্থানীয় আদিবাসীদের মিছিল প্রতিহত করতে যৌথ বাহিনীর গুলিতে পিরেন স্নাল নিহতসহ আরো ২০ জন আহত হলে সরকার দেয়ালটির নির্মানকাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছে [ছবি প্রকাশ ভূইয়া]
ভূমি অধিকার না থাকায় সংখ্যালঘু নৃগোষ্ঠি কখনই ভূমি অধিগ্রহন আইনটি মেনে নেয়নি। মূলত এই অ্যাক্ট/আইনটির কারনেই  রাষ্ট্রের সাথে মধুপুর শালবনের অভ্যন্তরে বসবাসরত নাগরিকদের মধ্যে ভূমি অধিকার নিয়ে বিরোধের সৃষ্টি হয়।

মুধুপর শাল বনের ভিতরে থাকা সাতটি গ্রামের মধ্যে একটি হচ্ছে বেদুরিয়া। এই গ্রামগুলোতে বসবাসকারী গারো ও কোচ সম্প্রদায়কে মনে করা হয় এখানকার মূল অধিবাসী যারা প্রায় ২০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে এখানে বসবাস করছেন [ছবি: প্রকাশ ভূইয়া]

মধুপুর শাল বনের গারো সম্প্রদায় বনের অধিকার ফিরে পেতে ১৯৬২ সাল থেকে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে যখন তৎকালীন পাকিস্তান সরকার এই বনভূমিকে জাতীয় উদ্যান হিসেবে ঘোষনা করে। সেই ঘোষণার পরপরই স্থানীয় অধিবাসীদের কাছে উচ্ছেদের নোটিশ পাঠানো হয়।

সামাজিক বনায়ন প্রচারণা

১৯৮২ সালের পরের বছরগুলিতে বাংলাদেশ সরকার বিভিন্ন পর্যায়ের সামাজিক বনায়ন কার্যক্রম চালু করে। এই কর্মসুচির মূল লক্ষ্য ছিল মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) বনশিল্পের অবদান বাড়ানো এবং রাবার চাষ ও কৃষিভিত্তিক বনায়নের মাধ্যমে স্থানীয় জনগনের জীবিকার মানোন্নয়ন। পাশাপাশি জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও ইকো-ট্যুরিজমের প্রসার ছিল এই কার্যক্রমের আরো দু’টি উদ্দেশ্য।

১৯৮০ সালের মাঝামাঝি বাংলাদেশের প্রতি একজন নাগরিকের জন্য বনভূমির পরিমান ছিল এশিয়ার সবক’টি দেশের মধ্যে সর্বনিম্ন। জ্বালানী কাঠের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার তার পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় (১৯৮০-১৯৮৫) বনজসম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং কাঠ উৎপাদন করা যায় এমন ধরনের বৃক্ষ রোপনের উপরে ব্যাপক জোর দেয়। এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের আর্থিক সহায়তায় ১৯৮১ সালে বাংলাদেশে প্রথম ১১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয়ে শুরু হয় কমিউনিটি ভিত্তিক বনায়ন প্রকল্প।

স্থানীয় গারো জনগনের মতে এর মধ্য দিয়েই আসলে বনভূমি উজাড় হওয়া এবং এর উপরে স্তানীয়দের অধিকার হারানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়। কমিউনিটিভিত্তিক বনায়ন বা সামাজিক বনায়ন কর্মসুচির মধ্য দিয়ে বাণিজ্যিকভাবে মূল্যবান শাল গাছ সরিয়ে সেখানে কাঠ প্রদানকারী নানা ধরনের বৃক্ষ রোপনের কাজ শুরু হয়। গবেষণা বলছে, ১৯৭৫ থেকে ১৯৮৩ সালের মধ্যে মধুপুর গড়ের বনভূমির পরিমান ছিল ৩৬ শতাংশ। কিন্তু ১৯৭৭ থেকে ১৯৯১ সালের মধ্যে মধুপুর অঞ্চলে বনভূমি উজাড়ের পরিমান ৫৬ শতাংশে গিয়ে পৌছায় (বছর প্রতি প্রায় ৪ শতাংশ), অথচ দক্ষিণ এশিয়ায় সেই সময়ে বনভূমি উজাড়ের গড় মাত্রা ছিল ০.৮ শতাংশ।

মধুপুরে বসবাসকারী আদিবাসীদের প্রতিনিধিত্বকারী একটি সুশীল সমাজ ভিত্তিক সংগঠন জয়েনশাহী আদাবাসী উন্নয়ন কাউন্সিল-এর সভাপতি ইউজিন নোরেক  বলেন সামাজিক বনায়নের নামে এই কর্মসুচি বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে আসলে আমাদের এই প্রাকৃতিক শালবনটিকে একপ্রকার ধ্বংস করা হয়েছে।

২০০১ সালে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি) এই প্রকল্পের মূল্যায়ন প্রতিবেদন  – এ ব্যাপক অসঙ্গতি লক্ষ্য করে। প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে মোট বাজেটের প্রায় বেশিরভাগই প্রদান করে এডিবি। এছাড়াও এই প্রকল্পগুলোতে আরো অর্থায়ন করে বিশ্বব্যাংক ও ইন্টারন্যাশনাল ফিনান্সিয়াল ইন্সটিটিউশনস।

বাংলাদেশের এখনকার আইনের কারনে বনের ভিতরে বসবাসকারী আদিবাসী গারো সম্প্রদায়গুলো সমস্যার মধ্যে পতিত হয়েছে।

পিরেন স্নালের অসুস্থ্য পিতা নিজেন নোকরেক (৭০) বলেন, ন্যায়বিচার পাওয়ার আশা খুব একটা নেই তারপরেও হাল ছাড়বেন না [ছবি: প্রকাশ ভূইয়া]
পিরেন স্নালের অসুস্থ্য পিতা নিজেন নোকরেক (৭০) বলেন, ন্যায়বিচার পাওয়ার আশা খুব একটা নেই তারপরেও হাল ছাড়বেন না [ছবি: প্রকাশ ভূইয়া]
পিরেন স্নলের বাবা নিজেন নোরেক-এর বর্তমান বয়স ৭০। পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের আচরনে তিনি এখন আর সন্তান হারানোর সঠিক বিচারের আশা করেন না। নিজ ভূমির জন্য আন্দোলন এখন উৎপলকে হুইলচেয়ারে এনে বসিয়েছে। বেঁচে থাকার মতো উপার্জন জোগাড় করতে রীতিমতো সংগ্রাম করছেন উৎপল।

ভাগ্যের নির্মমততার শিকার হলেও এই দু’জন এতটা অসহায় ছিলেন না। তাদের মতে, মধুপুরের মানুষের এই সংগ্রাম বোধ হয় চলতেই থাকবে এভাবে।

বিশেষ জ্ঞাতব্য: মধুপুরে অবস্থানকালে এই প্রতিবেদক প্র্রতিবেদনটির জন্য বনবিভাগের বক্তব্য জানতে অসংখ্যবার চেষ্টা করেন। কিন্তু ব্যাপারে বনবিভাগের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদনটি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট বনবিভাগের পক্ষ থেকে বক্তব্য পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তা যুক্ত করে এই প্রতিবেদনটি আপডেট করা হবে।  

অনুবাদ: আরিক গিফার