গত ২৩ এপ্রিল ২০২০, ভারতের পরিবেশ মন্ত্রকের বনভূমি পরামর্শ কমিটি (এফএসি) দেশটির উত্তরপূর্ব অঞ্চলের রাজ্য অরুনাচলে নির্মিতব্য ৩,০৯৭ মেগাওয়াট ইটালিন জলবিদ্যুত প্রকল্পটির ব্যাপারে সতর্ক করে দেয়।

প্রস্তাবিত এই বাঁধটি জিন্দাল পাওয়ার লি. (জেপিএল) এবং রাজ্যের সরকারী প্রতিষ্ঠান জলবিদ্যুত উন্নয়ন কর্পোরেশনের একটি যৌথ প্রকল্প। উল্লেখিত সভার কার্যবিবরনীতে দেখা যায় এফএসি মূলত এই প্রকল্পটি অনুমোদনের কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহন না করে বিদ্যুত মন্ত্রকের পরামর্শ জানতে চেয়েছে। এক্ষেত্রে তিনটি বিষয়কে প্রাধান্য দিয়ে মতামত জানতে চায় এফএসি। এগুলো হচ্ছে: প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ৬ বছর দীর্ঘসূত্রীতা এবং এই সময়ের মধ্যে দেশের বিদ্যুত জ্বালানী পরিকল্পনার পরিবর্তন; উচ্চমাত্রার শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা, এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রকৃতি এবং জীববৈচিত্র্যের উপরে সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাব মোকাবেলায় পদক্ষেপগুলোকে অগ্রাধিকার প্রদান।

অরুনাচল প্রদেশের দিবাং উপত্যকায় নির্মিতব্য জলবিদ্যুত প্রকল্পটি রাজ্যের আরো ১৬০টি অনুরুপ প্রকল্পের মধ্যে একটি। এই প্রকল্পটি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা রয়েছে। বিশেষ করে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে উত্তরপূর্ব ভারতের গভীর অরন্যে  বসবাসরত বন্যপ্রানী এবং আদিবাসী সম্প্রদায়ের উপরে বিরুপ প্রভাব পড়বে বলে ধারণা করা হয়।

মাত্রাতিরিক্ত দীর্ঘ সময় এবং অধিক নির্মান ব্যয় নিয়ে উদ্বেগ আসলে ইটালিন ড্যামের ক্ষেত্রে নতুন কোনো ঘটনা নয়।  হিমালয় রাজ্যগুলোর মধ্যে উত্তরাখন্ড, হিমাচল প্রদেশ, অরুনাচল প্রদেশ, আসাম, সিকিম, জম্মু ও কাশ্মীরে যে কোনো জলবিদ্যুত প্রকল্প নির্মানের ক্ষেত্রে এই ধরনের ঘটনা একেবারেই নতুন নয়।

কেন্দ্রীয় বিদ্যুত কর্তৃপক্ষ (সিইএ)-এর সাম্প্রতিক ত্রৈমাসিক প্রতিবেদনে (জানুয়ারি – মার্চ ২০২০) বলা হয়েছে ভারতের এসব রাজ্যে নির্মানাধীন অনেক বৃহত জলবিদ্যুত প্রকল্পের নির্মান ব্যয় এরই মধ্যে  ২০০ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে এবং এদের অনেকেরই প্রকল্প বাস্তবায়ন কাল কেনো কোনো ক্ষেত্র ১৩ বছর পর্যন্ত ছাড়িয়ে গেছে।

I

কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রকৃত বিলম্বের মেয়াদ আরো অনেক বেশী। কারন বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বিলম্বের বিষয়টি কেবল নির্মান পর্যায় থেকে রেকর্ড করা হয়। অথচ এমন যে কোনো প্রকল্প নির্মানের পর যথাযথ সংস্থার কাছ থেকে ছাড়পত্র পেতে লেগে যায় বছরের পর বছর সময়। ইটালিন হাইড্রোপাওয়ার (জলবিদ্যুত) প্রকল্পটি প্রথম প্রস্তাব করা হয় ২০০৮ সালে। অথচ এখনো পর্যন্ত এই প্রকল্পটি যথাযথ ছাড়পত্র হাতে পায়নি।

ইটালিনের মতো প্রকল্পগুলির অর্থনৈতিক বাস্তবতা সম্পর্কিত প্রশ্নগুলি দায়িত্বশীল যেসব সংস্থা সরকারকে এসব বিষয়ে পরামর্শ প্রদান করে তাদের নজরে খুব ভালোভাবেই রয়েছে।   বড় বড় জলবিদ্যুত প্রকল্পগুলোর বিলম্বিত নির্মানকাল এবং ব্যয় বৃদ্ধির বিষয় নিয়ে ভারতের সংসদে বিভিন্ন সময়ে আলোচনা  হয়েছে।

 

বড় জলবিদ্যুত প্রকল্পগুলোতে রয়েছে সরকারের সুস্পষ্ট সমর্থন

এটি মোটেই আশ্চর্য্য হবার মতো কোনো বিষয় মনে হয়নি যখন জেপিএলের প্রধান নির্বাহী ভারত রোড়া মে মাসে মন্তব্য  করে বসেন যে ইটালিন ড্যাম প্রকল্পের জন্য যে অর্থ দরকার এবং তাতে এটিকে মোটেই একটি আকর্ষনীয় প্রকল্প হিসেবে মনে করা যায়না। সেসময় তিনি এর জন্য আরো বিনিয়োগকারীর সন্ধান করেন।  তিনি আরো বলেন, যেহুতু ইটালিন একটি অত্যন্ত বৃহত প্রকল্প, তাই আমরা মনে করি এই প্রকল্পের শতভাগ সামর্থ অর্জনের ক্ষেত্রে আমাদের দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগকারী খুঁজে পেতে কঠোর প্রচেষ্টা চালাতে হতে পারে। তবে এই ক্ষেত্রে সরকার নীতিগত সহায়তা অব্যাহত রাখার মাধ্যমে এই প্রকল্পটিকে একটি আকর্ষনীয় প্রকল্প হিসেবে তুলে ধরে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আগ্রহ সৃষ্টির কাজ করতে পারে।

এত কিছুর পরও ভারত সরকার এখনও বড় আকারের জলবিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মানের বিষয়টিকে ইতিবচাক দৃষ্টিতে দেখছে।

বিনিয়োগকে উৎসাহিত করতে গত বছর সরকার বৃহত জলবিদ্যুত (২৫ মেগাওয়াটের বেশী ক্ষমতাসম্পন্ন) প্রকল্পের ধারণাকে নতুনভাবে দেখতে শুরু করেছে। এধরনের প্রকল্পকে এখন নবায়নযোগ্য জ্বালানী উৎস হিসাবে দেখা হচ্ছে এবং এই লক্ষ্যে নেয়া ঋণ শোধের সময়সীমা ১৮ বছর পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রকল্পের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে  উন্নত করার লক্ষ্যে সড়ক, সেতুসহ অন্যান্য স্থাপনা নির্মানে সহায়তা করছে।

বিশষজ্ঞরা এই নীতিকে কিছুটা জাতিসংঘে দেয়া সরকারের প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নের রোডম্যাপ হিসেবে দেখছেন। জাতিসংঘে দেয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ি ভারত সরকার আগামী ২০২২ সালের মধ্যে ১৭৫ গিগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন নবায়নযোগ্য জ্বালানী প্রকল্প নিশ্চিত করবে।

জেপিএল এর আগে ইটালিন প্রকল্প থেকে নিজেদেরকে গুটিয়ে নেয়ার চেষ্টা করেছিল। গত ফেব্রূয়ারি ২০১৬ এক খবরে জানা যায় জেপিএল সরকারী মালিকানাধীন জলবিদ্যুৎ সংস্থা এনএইচপিসিকে তার তিনটি প্রকল্পের দায়িত্ব নিতে অনুরোধ করেছিল। এনএইচপিসি তখন বলেছিল, প্রকল্পগুলোর ব্যয়ভার সবদিক থেকে সুবিধাজনক হলে এনএইচপিসি অবশ্যই এই প্রকল্পগুলোর দায়িত্ব নিয়ে নিতে পারে।

যেহেতু এনএইচপিসি এখনও প্রকল্পটি গ্রহণ করেনি, এর অর্থ কী এর ব্যয়ভার বাস্তবসম্মত নয়? এ ব্যাপারে জানতে চেয়ে দ্য থার্ড পোল-এর পক্ষ থেকে জেপিএল এবং এনএইচপিসির দায়িত্বশীল ব্যক্তির সাক্ষাতকারের অনুরোধ জানানো হয়। কিন্তু এই প্রতিবেদন প্রকাশ করার আগ পর্যন্ত তাদের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের সাঁড়া মেলেনি।

বড় বাঁধগুলি স্থবির সম্পদে পরিণত হয়

হিমালয় অঞ্চলে নির্মিত আরো অনেক জলবিদ্যুত প্রকল্পের মতো ইটালিনও একটি স্থবির সম্পদে পরিনত হতে পারে বলে অনেকেই মনে করেন।

গত ৫ জুন ২০২০ এমওপি-কে দেয়া একটি বিশ্লষনে দেখা যায় ইটালিনের প্রথম বছরে শুল্ক হতে পারে ঘন্টায় প্রতি কিলোওয়াট ৬.৭ ভারতীয় রুপী। আর এর চেয়ে একটু নেতিবাচক পরিস্থিতিতে এই মূল্যের পরিমান দাঁড়াতে পারে ৮.৯ রুপীতে। দ্বিতীয় প্রাক্কলিত ব্যয় (প্রতি কিলোওয়াট/ঘন্টা)   ব্যাটারি স্টোরেজসহ সৌর ফটোভোলটাইক সিস্টেমের  ক্ষেত্রে দ্বিগুন। ২০২০ সালে করা এক বিশ্লষনে এই ব্যয় হচ্ছে মাত্র ৩.৯৪/kWh।

অশ্বিনী চিত্নিস নামে একজন স্বাধীন পলিসি এনালিষ্ট এবং গবেষণা সংস্থা মন্থন অধ্যায়ন কেন্দ্র এফএসি কর্তৃক উত্থাপিত প্রশ্নগুলোর বিশ্লষন করেন।

২০১১ সালে ইটালিনের সামগ্রীক ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছিল।এই প্রকল্পের সামগ্রীক প্রতিবেদন প্রস্তুত করে সিইএ এবং অন্যান্য সংস্থাকে নিয়মিত বিরতীতে পাঠানো হয়। প্রতিবেদন অনুযায়ি যে শুল্ক নির্ধারণ দেখানো হয়েছে তা প্রকল্প সম্পন্ন হবার পরের অবস্থাকে বিবেচনা করে দেখানো হয় বলে জানান মন্থন অধ্যায়ন কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা শ্রীপদ ধর্মাধীকারী। মোদ্দাকথা এর যে ব্যয় হিসাব করা হয় তাতে মনে করা হয়েছিল যে প্রকল্পটি ২০১৪ সালে শুরু হবে এবং ২০২২ সালের মধ্যে এর যাবতীয় কাজ শেষ হবে।

প্রকল্পটি সাথে সংশ্লিষ্ট প্রাক-নির্মান কর্মকাণ্ড যেমন সড়ক নির্মান এখনো সঠিকভাবে সম্পন্ন না হওয়ায় ২০২৭ সালের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ নির্মান কাজ সম্পন্ন হবার চিন্তাকে একটু অতিরঞ্জিত  হিসেবে ভাবছেন তিনি। এমনকি তার মতে কাজের অগ্রগতি বিচার করে ২০৩১ সালের মধ্যে প্রকল্পটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হবে কিনা সে ব্যাপারে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। 

উৎপাদিত বিদ্যুইতের মূল্য বেড়ে যাবার বিষয়ে ধর্মাধিকারী মনে করেন প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা পন্যের উচ্চ শুল্ক এবং নানা ধরনের প্রনোদনার বিষয়ে বিভিন্ন মহলে তদ্বির করছেন। অথচ উচ্চমূল্যে বিদ্যুত ক্রয়ের ক্ষেত্রে আসলেই তেমন ক্রেতা পাওয়া যাচ্ছেনা।

ধর্মাধিকারী আরো মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বেসরকারী কোম্পানিগুলো চাইছে যে সরকার প্রকল্পটি পুরোপুরি গ্রহন করুক কারন তারা জানে এই প্রকল্প থেকে উৎপাদিত বিদ্যুতের উচ্চমূল্যের কারনে ক্রেতা আকর্ষণ কঠিন হবে।

তথ্য অধিকার আইনের আওতায় দ্য থার্ড পোল কয়েকটি তথ্য জানতে চেয়ে পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের বরাবর একটি অনুরোধ দাখিল করে। এতে জানতে চাওয়া হয় সমঝোতা স্মারক সইয়ের পর অরুনাচল প্রদেশে কতগুলো জলবিদ্যুত প্রকল্পের কাজ বাতিল করা হয় এবং বেসরকারী খাতের ঠিক কতগুলো প্রকল্প সরকার অধিগ্রহন করে। একইসাথে অধিগ্রহনের কারণগুলো জানতে চাওয়া হয়। অনুরোধটি সিইএ এবং এনএইচপিসি’র কাছে পাঠিয়ে দেয়া হয়। পরবর্তীতে দু’টি সংস্থাই জানায় তাদের কাছে এই ধরনের কোনো তথ্য নেই। এমনকি সরকার এমন কোনো প্রকল্প অধিগ্রহন করেছে কিনা সে ব্যাপারেও তাদের কাছে কোনো তথ্য নেই। 

এ যেন শ্বেত হস্তি

১২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন তিস্তা-৩ জলবিদ্যুত প্রকল্পটির ক্ষেত্রে সিকিম সরকারের সমতাভিত্তিক ভাগাভাগির বিষয়টি ২৬ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫১ শতাংশ বেড়ে যায় কারন সার্বিকভাবে এর ব্যয় বৃদ্ধি পায় ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৯০ বিলিয়ন (১.৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার)। চিন্থিস বলেন এ অবস্থায় কেউই এই প্রকল্পে বিনিয়োগ করতে রাজী নয় যদি না মালিকানা বা লভ্যাংশ্য ভাগাভাগির পরিমান বৃদ্ধি করা না হয়।

বেশিরভাগ জলবিদ্যুত প্রকল্পগুলো ৭০-৩০ অনুপাতে ঋণ-সমতা ভিত্তিক অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়। এর মানে হচ্ছে এই প্রকল্পের ৭০ শতাংশ অর্থ আসে ঋণ থেকে এবং বাকি ৩০ শতাংশ আসে প্রকল্প পরিচালনাকারীদের অর্থ থেকে। চিন্থিস বলেন, তিস্তা-৩ বাঁধের ক্ষেত্রে অংশীদারিত্বের এই অনুপাত পরিবর্তন করা হয় কারন প্রকল্প নির্মানে অধিক ব্যয়ের কারনে উৎপাদিত পন্যের মূল্য প্রচুর বৃদ্ধি পায়। এই কারনে সিকিমের মতো ছোট একটি রাজ্য ঋণ গ্রহনে বাধ্য হয়।

‌এটি অত্যন্ত হাস্যকর। যদি একটি প্রকল্পকে লাভবান করতে ঋণ নিয়ে অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করতে হয় তার অর্থ হচ্ছে সেই প্রকল্পটি আসলেই একটি যথার্থ প্রকল্প নয়, এভাবেই নিজের অভিমত ব্যক্ত করেন চিন্থিস।

ইটালিনের ক্ষেত্রে অরুনাচল সরকার নিজ রাজ্যের জলবিদ্যুত উন্নয়ন কর্পোরেশন লি. এর মাধ্যমে ২৬ শতাংশ অংশীদারিত্ব রয়েছে। চিন্থিস বলেন, আমার মনে হয় এই প্রকল্পটিতে অর্থায়ন করতে রাজ্য সরকারকে আরো ঋণ নিতে হতে পারে।

পাঁচ বছর ঝুলে থাকার পর ২০১৭ সালে তিস্তা-৩ প্রকল্পটি চালু হলে নতুন করে কিছু সমস্যা দেখা দেয়। চিন্থিস বলেন, প্রকল্পটি থেকে উৎপাদিত বিদ্যুতের অন্যতম ক্রেতা পাঞ্জাব এবং রাজস্থান রাজ্য কেবল শুল্ক বাড়ার কারনে এখান থেকে বিদ্যুত ক্রয়ের ব্যাপারে অনীহা প্রকাশ করে।

একই পরিস্থিতি ইটালিনের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে বলে মনে করেন তিনি।

 ভূতাত্বিক বিপত্তি

ভারতে নির্মানাধীন অনেক জলবিদ্যুৎ প্রকল্পই হিমালয় রাজ্যে রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন এই অঞ্চলের ভূতত্ত্ব এবং ভৌগলিক অবস্থা এ জাতীয় প্রকল্পগুলির ক্ষেত্রে  সহজাতভাবে ঝুঁকিপূর্ণ। সিইএ’র ত্রৈমাসিক প্রতিবেদনে এসব কারনেই এই রাজ্যগুলোতে এ ধরনের প্রকল্পগুলোর ব্যয় এবং নির্মান সময়  ৮০%  যাবার কথা বলা হয়েছে।

সুরি সেহগাল সেন্টার ফর বায়োডাইভারসিটি অ্যান্ড কনজারভেশন এর একজন ফলো জগদীশ কৃঞ্চস্বামী । এই সংস্থাটি অশোকা ট্রাষ্ট ফর রিসার্চ ইন ইকোলজি অ্যান্ড দ্য এনভায়রনমেন্ট এর একটি অংশ। জানতে চাইলে জগদীশ বলেন,  “হিমালয় হচ্ছে পৃথিবীর সর্বকনিষ্ঠ পার্বত্য ব্যবস্থা যা এখনও পরিবর্তনশীল কারণ ভারতীয় প্লেটটি এখনও ইউরেশিয়ান প্লেটের বিরুদ্ধে চাপ দিচ্ছে।’ জগদীশ কৃঞ্চস্বামী ইন্টারগভর্নমেন্টাল প্ল্যানেট অন ক্লাইমেট চেঞ্জ’স স্পেশাল রিপোর্ট অন ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড ল্যান্ড শীর্ষক প্রতিবেদনের একজন অন্যতম প্রধান লেখক।

কৃঞ্চস্বামী বলেন, হিমালয় অঞ্চলে বড় জলবিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণ ও পরিচালনার ক্ষেত্রে ঝুঁকিগুলি সর্বজন স্বীকৃত কারণ টেকটোনিক ক্রিয়াকলাপের কারণে এখানে ভূমিধ্বস এবং ভূতাত্ত্বিক অস্থিরতা একটি নৈমিত্তক ঘটনা।

সিইএ ত্রৈমাসিক প্রতিবেদনে প্রকল্প নির্মানে সময় এবং ব্যয় বৃদ্ধির অন্যতম কারন হিসেবে দূর্বল ভূ-তত্ব, ভারী বর্ষণ, প্রকল্প ব্যয় বৃদ্ধির ফলে বাজেট ঘাটতি, আবহাওয়া এবং অভিগম্যতা এবং আকষ্মিক বন্যাকে কারন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এ ব্যাপারে মন্তব্য জানতে চাইলে কৃঞ্চস্বামী বলেন, এতে অবাক হবার কিছুই নেই। পরিবেশগত ছাড়পত্রের জন্য প্রযুক্তিগত মূল্যায়নের সময় লাভ-ক্ষতির অনুপাতটি কার্যকর দেখাতে এই ঝুঁকির বিষয়গুলোকে অত্যন্ত নগন্য হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। 

ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি

কৃঞ্চস্বামী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সৃষ্ট ভারী, অসম বৃষ্টিপাতের ঝুঁকিগুলোকে পরিবেশগত ঝুঁকির মূল্যায়নের সময় যথার্থভাবে লীপিবদ্ধ করা হয়না।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে জলবিদ্যুত প্রকল্পের জন্য নির্মান করা বাঁধগুলো বিশেষ করে পশ্চিম হিমালয় রাজ্যগুলো যেমন উত্তরাখন্ড এবং হিমাচল রাজ্যের কিছু অংশ গঙ্গা অববাহিকার অন্তর্গত। কৃঞ্চস্বামী বলেন, সরকার যদি গঙ্গা নদীকে ভালো রাখতে চায় তাহলে সরকারকে বুঝতে হবে হিমালয়ে এসব প্রকল্প গঙ্গা নদীর জন্য ক্ষতি বয়ে আনতে পারে। 

পশ্চিম হিমালয় অঞ্চলের অন্য যেসব নদী আছে তার মধ্যে অন্যতম হিমাচল প্রদেশের বিয়াস এবং সুতলেজ এবং জম্মু-কাশ্মীরের চেনাব। এই সবগুলো নদীই ইন্দাস অববাহিকার অন্তর্গত। গঙ্গা এবং ইন্দাস (সিন্ধু) অববাহিকায় সব মিলিয়ে প্রায় ৬০০ মিলিয়ন মানুষের বসবাস।

বিক্ষোভকারীদের দুষছে ডেভেলপাররা

নদীগুলোর ক্ষতি ছাড়াও বসবাসকারী নানা সম্প্রদায়ের মানুষ, দূর্বল পর্বত এবং সেই সাথে দূর্বল পরিবেশ ঝুঁকির কারনে এই প্রকল্পগুলোর সার্বিক ব্যয় বৃদ্ধি এবং নির্মান সময় দীর্ঘায়িত হয়।

এই ধরনের একটি প্রকল্পের উৎকৃষ্ট উদাহরণ হচ্ছে আসাম এবং অরুনাচল প্রদেশের সীমানায় নির্মিতব্য ২০০০ মে.ও. ক্ষমতাসম্পন্ন সুবানসিরি হাইড্রোইলেকট্রিক প্রকল্প।

পরিবেশ নিয়ে কাজ করছে এমন একটি বেসরকারী সংস্থা কল্পভ্রিকাশ – এর নীরাজ ভাঘোলিখার বলেন, মারাত্বক নিরাপত্তা সমস্যা এবং নিচের দিকে এর নেতিবাচক প্রভাবের আশংকায় এই প্রকল্পটির কাজ ২০১১ সালের ডিসেম্বর মাস থেকে ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত বন্ধ থাকে।

ভাঘোলিখার বলেন, মূল কারন এটি হলেও প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা সাধারণ মানুষের কাছে প্রচার করছেন যে বিক্ষোভকারীদের বাঁধার কারনেই এই প্রকল্পের কাজ ব্যাহত হচ্ছে।

সিইএ প্রতিবদনে লোয়ার সুবানসিরি প্রকল্পের ব্যয় এবং নির্মান সময় বেড়ে যাবার কারন হিসেবে আসামের ড্যাম বিরোধীদের বিক্ষোভকে দায়ি করা হয়। এ বিষয়টি প্রতিবেদনে বড় করে উল্লেখ করা হয়।

ভাঘোলিখার বলেন, আসলে এই ধরনের প্রকল্পগুলো আমাদের জন্য একেকটি শ্বেত হস্তি। এটি সত্য যে এই প্রকল্প নিয়ে স্থানীয়দের বিক্ষোভের বহু আগেই বিদ্যুতকেন্দ্রের পাশে বড় ধরনের ভূমিধ্বসের ঘটনা ঘটে। এর কারনেই মূলত প্রকল্পের নকশায় পরিবর্তনসহ সার্বিক কাজ পিছিয়ে যায়।

ভাটির দিকে স্থানীয় জনগন এবং কিছু জোটবদ্ধ গ্রূপের বিক্ষোভের ফলে প্রকল্পের উপরে যে প্রভাব পড়েছে তা যাচাই করতে আসামে বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি স্বাধীন কমিটি গঠন করে। এই কমিটির সুপারিশে বলা হয় প্রকল্প/ড্যামটি সঠিক এলাকায় নির্মান করা হয়নি। এর কয়েক বছরের মধ্যে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে আরেকটি মূল্যায়ন করা হয়।

ভাঘোলিখার বলেন, ২০১৯ সালে কেন্দ্রীয় সরকারের মূল্যায়নে আসামের বিশেষজ্ঞ কমিটির মূল্যায়নকে সঠিক বলে বিবেচনা করা হয়নি। তবে কমিটির মূল্যায়ন প্রতিবেদনে ড্যামের নকশায় ব্যাপক পরিবর্তন আনার সুপারিশ করা হয় যাতে এটি পরিবেশ এবং জনগনের জন্য নিরাপদ হয়।

একটি ড্যাম বা প্রকল্পের ত্রূটিপূর্ণ/অনিরাপদ নকশা খূঁজে পেতে এবং সেই নকশার পরিবর্তন আনতে যে সময়  এবং অর্থ ব্যয় হয়েছে তার দায় তো স্থানীয় বিক্ষোভকারীদের উপরে চাপিয়ে দেয়া উচিত নয়  – মন্তব্য ভাঘোলিখার।

 

অনুবাদ: আরিক গিফার

One comment

  1. Himalaya is young mountain which is still adjusting to stresses developed by two subduction zones in NER. Hence, large dam like Etalin with >3000 MW power could not be started the delay shot up the generation cost. The EIA after the delay in the Concrete dam of Subansiri HEP on soft imatured Siwalik sandstone led to fear of dam collapse and devastation downstream. Thus economically viable small dams are suited in NER. The initial cost of any HEP is very high which gets flattened with time. With climatic change it is a moot question whether mega dams will become a white elephant or not. Recently with no Resident engineering geologist not available from experienced GSI, large venture in hydro electric projects are better avoided.

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.