একটি বিষয় অত্যন্ত পরিস্কার যে জলবাযু পরিবর্তনের সব ধরনের প্রভাবের সাথে খাপ খাইয়ে চলা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। আমাদের বায়ুমন্ডলে এখন বাড়াবাড়ি রকমের গ্রিন হাউজ গ্যাসের আধিক্য, কার্বন নির্গমন মোকাবেলায় কাজ হচ্ছে খুব সামান্যই, এমনকি অভিযোজনের বিষয়টিও হতাশাব্যাঞ্জক, ফলে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব বেড়েই চলেছে দিনের পর দিন।

আর নেতিবাচক এসব প্রভাবের অনিবার্য ফল হচ্ছে জলবায়ু পরিবর্তনসৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতি বা লস অ্যান্ড ড্যামেজ। সম্প্রতি জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচি (ইউএনইপি) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে  জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির ধরণ, মাত্রা এবং এর প্রভাব  মোকাবেলায় কারণীয় সম্পর্কে কিছু সুপারিশ তুলে ধরা হয়েছে।

জলবায়ু পরিবর্তন শীর্ষক আন্ত:সরকার প্যানেল (ইন্টার-গভর্ণমেন্টাল প্যানেল অন ক্লাইমেট চেঞ্জ  – আইপিসিসি) প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদনে  বলা হয়েছে, উনবিংশ শতাব্দীর শেষ দিকের চেয়ে এই মুহুর্তে পৃথিবী কমপক্ষে ০.৮৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি উঞ্চ। জলবাযু পরিবর্তনের কারনে অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে এখন ঝড়, বন্যা ও খরার মতো প্রাকৃতিক দূর্যোগের ঘটনা বেড়েই চলেছে। সেই সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা।

এর অনিবার্য ফলাফল জলবায়ু পরিবর্তনসৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতি। সম্প্রতি জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচি (ইউএনইপি) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে  এসব ক্ষয়ক্ষতির ধরন, মাত্রা ও করণীয় সম্পর্কে কিছু সুপারিশ করা হয়েছে। গ্রীষ্মম-লীয় অঞ্চলের দেশগুলো জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবেলা করছে সেই ৯০-এর দশক থেকে।

আইপিসিসি বলছে, ২১০০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক তাপমাত্রা যদি শিল্প-বিপ্লবের সময়ের চেয়ে মাত্র তিন ডিগ্রী বৃদ্ধি পায় তাহলে দক্ষিণ এশিয়ায় খাদ্যশষ্য উৎপাদনের মাত্রা ৪ থেকে ১০ শতাংশের নিচে নেমে যাবে; ভারতে চালের উৎপাদনও হ্রাস পাবে চার থেকে ১০ শতাংশ; মৌসুমী আবহাওয়া বা বর্ষাকালে ভূট্টার উৎপাদন ব্যাহত নাও হতে পারে, কিংবা এর উৎপাদন নিদেনপক্ষে ৩৫ শতাংশ কমে যেতে পারে  – তবে তা নির্ভর করবে বৈশিক উঞ্চতার মাত্রার উপরে। পাকিস্তানে ধানের উৎপাদন ১৬ – ১৯ শতাংশ এবং গম ৬ – ৮ শতাংশ কমে যেতে পারে।

কী ঘটছে আসলে

সম্ভবত ‘লস অ্যান্ড ড্যামেজ’ নিরুপণ করার প্রথম চেষ্টা করা হয় ২০০৩ সালে ইউরোপের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ভয়াবহ তাপপ্রবাহের পর। ওই তাপপ্রবাহের ভয়াবহতার শিকার হয়ে ইউরোপ জুড়ে ৩০,০০০ মানুষের মৃত্যু হয় । এখানেই শেষ নয়, এর ফলে সম্পূর্ন আলপাইন হিমবাহের ১০ শতাংশ গলে যায়, সাইবেরিয়া ও স্ক্যান্ডেনেভিয়ার ভূ-গর্ভস্থ্য চিরহিমায়িত অঞ্চল গলতে শুরু করে। এর দূর্যোগের ফলে কেবল ইউরোপীয় ইউনিয়নের কৃষি ক্ষেত্রে ক্ষয়ক্ষতির পরিমান গিয়ে দাঁড়ায় ১৪.৭ বিলিয়ন ডলারে।

১৯৫০ সালের পর থেকে এশিয়া, ইউরোপ ও অষ্ট্রেলিয়ার বিশাল অংশ জুড়ে তাপপ্রবাহের মাত্রা বাড়তে শুরু করে। সাম্প্রতিক এক গবেষনায় দেখা গেছে আগে এসব অঞ্চলে ১০০ বছরের মধ্যে প্রচন্ড তাপপ্রবাহের ঘটনা ঘটতো মাত্র দুই বার। আর এখন প্রতি এক দশকের মধ্যেই কমপক্ষে দুই বার এই ধরনের প্রাকৃতিক দূর্যোগের ঘটনা ঘটতে দেখা যাচ্ছে।

ইউএনইপি প্রকাশিত প্রতিবেদনটির লেখকরা ২০১৩ সালে ফিলিপাইনে আঘাত হানা ঘূর্ণিঝড় হাইয়ান নিয়ে গবেষণা করছেন। ভয়াবহ ওই ঘূর্ণিঝড়ের কারনে মৃতের সংখ্যা ছিল ৬,৩০০ আর এতে গৃহহীন হয় কমপক্ষে ৮০০,০০০ মানুষ। এই  জলোচ্ছ্বাসের কারনে কৃষি জমিগুলো প্লাবিত হয়ে দেশটির ২৬০,০০০ টন চাল ক্ষতিগ্রস্থ্য হয়।  সেসময় জলোচ্ছ্বাসের তীব্রতা অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পাওয়ার আরো অন্যতম একটি কারন ছিল ফিলিপাইনে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি। ১৯৯৩ সালে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা যতটুকু ছিল  ২০১৩ সালে তার চেয়ে ৩০ সেমি বৃদ্ধি পায়। জলোচ্ছ্বাসের কারনে দেশটির অনেকগুলো দ্বীপে পুকুরসহ প্রচুর জলাধার প্লাবিত হয়। ফলে মারাত্বকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ্য হয় খাবার জলের সুষ্ঠু  সরাবরাহ। এই জলোচ্ছ্বাসের কারনে  সেখানকার জলে লবনাক্ততার পরিমান  যে পর্যায়ে বৃদ্ধি পেয়েছিল তা মানুষের ব্যবহারের জন্য স্বাভাবিক পর্যায়ে আসতে বহু বছর লেগে যাবে।

আকষ্মিক দূর্যোগ

যে কোনো ধরনের আকষ্মিক ঝড়, বন্যা (ফ্ল্যাশ ফ্লাড) বা ভূমিধ্বসের কারনে ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটতে পারে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের অন্যান্য প্রভাবের ফলেও ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে: যেমন –  গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধি, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, খরা, ভূমিতে লবনাক্ততা এবং সাগরে অমলীকরণ। এই রকম যে কোনো দূর্যোগের  ফলে খাদ্য উৎপাদন, জল সরবরাহ, স্থাপনা ও বসতবাড়িসহ মানুষের জীবন ও জীবিকা মারাত্বকভাবে ব্যাহত হতে পারে।

ইউএনইপি’র প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, ২০১৫ সালের শুরুর দিকে প্রচন্ড খরার কারনে পূর্ব আফ্রিকা ও সাহেলের প্রতিবেশী রাষ্ট্র নাইজার, নাইজেরিয়া, মালি, শাদে প্রায় ২০.৪ মিলিয়ন মানুষ খাদ্যাভাবের কবলে পড়ে। ১৯৮০ সালে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ ওই খরার পর স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায় ক্রমবর্ধমান শুষ্ক তাপমাত্রা, যা কিনা জলবায়ু পরিবর্তনের কারনে সৃষ্ট একটি ক্ষতিকর প্রভাব।

২০১২ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় যে খরার ঘটনা ঘটে তা ছিল ১,২০০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ। ইউএনইপি’র ওই প্রতিবেদনে মানুষসৃষ্ট কারনে বায়ুমন্ডলের তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও এই ধরনের ঘটনার পূনরাবৃত্তির সাথে যে একটি সংযোগ রয়েছে এ সংক্রান্ত বেশ কিছু গবেষণার উদাহরণ দেয়া হয়েছে। ওই খরার ফলে ২০১৫ সালে ক্যালিফোর্নিয়ার কৃষিখাতে মোট ক্ষয়ক্ষতির পরিমান ছিল ২.৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

ক্যালিফোর্নিয়ার ৬০ শতাংশ জলের যোগান আসে সেখানকার ভূ-গর্ভস্থ্য উৎস থেকে – যা অতিরিক্ত উত্তোলনের ফলে এরইমধ্যে দূর্দশাগ্রস্থ্য। দীর্ঘ খরার কারনে সেসময়  উৎসগুলো  থেকে মাত্রাতিরিক্ত জল উত্তোলনের ঘটনা ঘটে, যার ফলে ভূ-গর্ভস্থ্য জলের স্তর অনেক নিচে নেমে যায় এবং একইসাথে হ্রাস পায়  ধারণ ক্ষমতাও। অন্যদিকে বৃষ্টিপাতের পরিমান কমে যাওয়ায় জলের উৎসগুলো পূর্ণ হতে পারছিল না দীর্ঘদিন। ২০১৪ সালে সেখানে ৯৬ কিমি দীর্ঘ একটি ভূমিস্তর প্রায় ৩৩ সেমি সংকুচিত হয়ে যায়।

অনিয়ন্ত্রিতভাবে সারা বিশ্বের জীববৈচিত্রের প্রায় ৬০ শতাংশকে এরইমধ্যে ক্ষতিগ্রস্থ্য করা হয়েছে। এর সঙ্গে আবার যুক্ত হয়েছে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট নানা ধরনের নেতিবাচক প্রভাব। এমন একটি সময়ে বিশ্বব্যাপী নীতি নির্ধারকদের উচিত ‘কী হচ্ছে’ এবং তার ফলে ‘আরো কী হতে পারে’ তা অনুধাবন করা।

কী করা উচিত

এ অবস্থায় ইউএনইপি বেশ কিছু ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কৌশল ও উপকরণের বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছে যা সেন্দাই ফ্রেমওয়ার্ক ফর ডিজাষ্টার রিস্ক রিডাকশন শীর্ষক প্রতিবেদনে বর্ণনা করা হয়েছে। এগুলো সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির মতো নানা ধরনের দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব মোকাবেলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। তবে এসব পরামর্শ আমলে নিলে ঘুর্ণিঝড় বা জলোচ্ছ্বাসের মতো ঘটনা মোকাবেলায়ও বেশ ইতিবাচক ভূমিকা রাখা যেতে পারে। ইউএনইপি’র মতে ২০১২ সালে নিউইয়র্কে ঘটে যাওয়া ঘূর্ণিঝড় স্যান্ডির ফলে আরো অনেক ক্ষয়ক্ষতি হতে পারতো যদি না সেখানকার কর্তৃপক্ষ ২০০৮ সাল থেকেই এ ধরনের ঘটনা মোকাবেলায় কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহন না করতো।

আইপিসিসি মনে করছে, ২১০০ সালের মধ্যে সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা ১.৩ মিটার বৃদ্ধি পাবে। যদি তাই হয় তবে এখনই এই ভয়াবহ প্রভাব মোকাবেলায় কার্যকর পরিকল্পনা ও কৌশল গ্রহন করতে হবে। এক্ষেত্রে সমুদ্র উপকূলে দেয়াল নির্মান করা হবে-  না কি, ম্যানগ্রোভ বন সৃজন করা হবে-  সেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে এখনই।

আকষ্মিক প্রাকৃতিক দূর্যোগ যেমন – ঘূর্ণিঝড়ের ঝুঁকি মোকাবেলায় বীমা একটি কার্যকর পহ্না হতে পারে বলে মনে করে ইউএনইপি। কিন্তু বর্ষায় বছরের পর বছর ধরে কোনো এলাকা প্লাবিত হয়ে থাকার মতো প্রাকৃতিক দূর্যোগের জন্য এটি যথেষ্ট কার্যকর নয়। কারন এ ধরনের দূর্যোগের পূনরাবৃত্তি ঘটতে পারে অতি স্বল্পতম সময়ের ব্যবধানে। এক্ষেত্রে কোনো বীমা প্রতিষ্ঠান ঝুঁকি নিতে চাইলেও এই বীমার প্রিমিয়ামের হার যথেষ্ট উচ্চ হবে বলে ধারণা করা যায়।

এক্ষেত্রে ইউএনইপি’র পরামর্শ হচ্ছে ক্ষতিগ্রস্থ্য মানুষের মধ্যে দূর্যোগ মোকাবেলায় সক্ষমতা গড়ে তুলতে হবে। অনেক সময়ই দেখা যায় দূর্যোগ আক্রান্ত এলাকার জনগণের প্রচলিত জ্ঞান ও অভিযোজন কৌশলে গবেষকরা পর্যন্ত বিষ্মিত হন। যেমন – মৌসুমী বৃষ্টিপাতের কারনে সৃষ্ট বন্যায় অভ্যস্ত এলাকার অধিবাসীদের রয়েছে নিজস্ব দূর্যোগ মোকাবেলা কৌশল। এক্ষেত্রে নীতিনির্ধারকরা একটি বড় ভূমিকা রাখতে পারেন। ইউএনইপির প্রতিবেদনে এ বিষয়ে একটি পরামর্শ দেয়া হচ্ছে তা হলো অধিবাসীদের জন্য স্থানীয় পর্যায়ে একটি রিজার্ভ ফান্ড গঠন করা করতে হবে যাতে দূর্যোগের সময়ে তারা এখান থেকে সহযোগিতা পেতে পারেন।

জলবায়ু আলোচনায় ‘লষ্ট অ্যান্ড ফাউন্ড’

বহুদিন ধরে জাতিসংঘের ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন অন ক্লাইমেট চেঞ্জ (ইউএনএফসিসিসি)- এর সম্মেলনগুলোতে অংশ নেয়া উন্নত দেশগুলোর প্রতিনিধীদের কাছে ‘লস অ্যান্ড ড্যামেজ’ (ক্ষয়ক্ষতি) একটি ট্যাবু (নিষিদ্ধ) হিসেবেই বিবেচিত হতো। সম্মেলনে অংশ নেয়া মার্কিন প্রতিনিধীদেরকে তাদের আইন বিষয়ক সহকর্মীরা আগে-ভাগেই সাবধান করে দিতেন যাতে তারা এসব বিষয়ে আলোচনায় অংশ না নেন বা কোনো প্রতিশ্রুতি প্রদান করেন। তাদের বলা হতো এই ধরনের আলোচনায় কোনো প্রতিশ্রুতি করলেই যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে ক্ষতিপূরণ মামলা চালু হবে। তাই এনিয়ে আলোচনায় তাদের কোনোরকম অংশগ্রহন দেখা যেতো না।

তবে যাই হোক, এই ইস্যুতে প্রথম থেকেই সরব ছিল বেসরকারী সংস্থাগুলোর প্রতিনিধি এবং কিছু কিছু দরিদ্র দেশের প্রতিনিধিরা। যার ফলে ২০১৩ সালে পোল্যান্ডের রাজধানীতে অনুষ্ঠিত ইউএনএফসিসিসি সম্মেলনে ওয়ারস ইন্টারন্যাশনাল মেকানিজম অন লস অ্যান্ড ড্যামেজ প্রতিষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে ২০১৫ সালে প্যারিস চুক্তির মাধ্যমে এটি একটি স্থায়ী প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়।

প্যারিস চুক্তির মধ্যেও এই বিষয়গুলো নিয়ে কিছু সুপারিশ রাখা হয়, যেমন  –  ঝড় ও বন্যাসৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির পরিমান কমিয়ে আনতে আগাম সতর্কবার্তা প্রচলন, দূর্যোকালীন প্রস্তুতি, ঝুঁকি মূল্যায়ন ও ব্যবস্থাপনা, ঝুঁকি বীমাসহ দূর্যোগ মোকাবেলায় জনগণের সক্ষমতা বৃদ্ধিসহ জীববৈচিত্র সংরক্ষণ ও জনগণের জীবনমান উন্নয়ন।

ওয়ারস কর্মকৌশলের আওতায় গঠিত কার্যকরী কমিটি চলতি বছর দুইটি সভা করেছে। কমিটি আগামী নভেম্বরে পরবর্তী জলবায়ু সম্মেলনের আগে আরো একবার আলোচনায় বসবে। এ ব্যাপারে দ্যথার্ডপোল.নেট – এর সাথে কথা বলেন বেসরকারী সংস্থা একশনএইড-এর প্রতিনিধী হারজিৎ সিং যিনি দীর্ঘদিন যাবত জলবায়ু পরিবর্তনের কারনে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে কাজ করছেন এবং একজন পর্যবেক্ষক হিসেবে এই কমিটির সব কয়টি বৈঠকে অংশ নিয়েছেন । তিনি বলেন, এ মুহুর্তে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের কারনে স্থানান্তরিত জনগণের ইস্যুটি নিয়ে কার্যকর কৌশল নির্ধারণ এবং বিভিন্ন ধরনের বীমার মাধ্যমে ঝূঁকি মোকাবেলা কৌশল চালু করা।

হারজিৎ বলেন, ‘আপাতদৃষ্টে মনে হচ্ছে না যে, পরবর্তী সম্মেলনে লস অ্যান্ড ড্যামেজ বা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবসৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি হবে। তবে পরিচালনাগত দিক থেকে কার্যকরী কমিটি এরই মধ্যে ইতিবাচক কিছু কাজ সম্পাদন করতে সক্ষম হয়েছে।’ এই কমিটির মোট সদস্য সংখ্যা ২০। এর মধ্যে উন্নত দেশগুলোর প্রতিনিধী ১০ জন এবং বাকিরা এসেছেন উন্নয়নশীল দেশগুলো থেকে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.