পরিবেশবাদীদের শংকা আন্ত:নদী সংযোগের ফলে জলাবদ্ধতা, নদীতে নাব্যতা কমে যাওয়া, পলি প্রবাহে বাধা সৃষ্টি হওয়া, মাছের উপর নেতিজনক প্রভাব, বনভূমি প্লাবিত হওয়া এবং সর্বোপরি বাংলাদেশের নদীগুলোতে জলের প্রবাহ কমে যাবে।

গত প্রায় এক দশক আগে বিজেপি (ভারতীয় জনতা পার্টির) সরকারের প্রস্তাবিত উচ্চাভিলাসী এবং বিতর্কিত সেই নদী সংযোগ প্রকল্পটি এবার নরেন্দ্র মোদীর সরকারের আমলে আবারো একধাপ এগিয়ে গেল। যাকে শুরু থেকেই বিশেষজ্ঞরা একটি ধ্বংসাত্বক, অবৈজ্ঞানিক ও উদ্বেগজনক প্রকল্প হিসেবে চিহ্নিত করে আসছেন।

প্রস্তাবিত এ মেগা প্রকল্পের আওতায় ব্যাপক প্রকৌশল কর্মকান্ডের মধ্য দিয়ে পূর্ব ভারতের গঙ্গা ও ব্রক্ষপুত্র নদী থেকে জল অপসারন করে পশ্চিম ও মধ্য ভারতের জল সংকটপূর্ণ অঞ্চলগুলোতে জলপ্রবাহ বাড়ানো হবে। আর এর জন্য তৈরি করা হবে জলাধার, বাঁধ এবং প্রায় ১৪,০০০ কিলোমিটার খাল। বিজেপি সরকার প্রকল্পটিকে ভারতে ফি-বছর বন্যা আর খরার এক সমাধান বলে একে প্রচার করছে।

জলের সংকট নিরসনে ভারতকে মৌসুমী বৃষ্টিপাতের উপরেই ভরসা করতে হয়। বিষয়টি এমনই যে একটি খারাপ বর্ষা মৌসুম গোটা ভারতে অর্থনীত এবং কৃষির জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। দেশটিতে বার্ষিক সর্বোচচ বৃষ্টিপাত হয়ে থাকে জুন – সেপ্টেম্বর মাসে। অন্যদিকে এ বৃষ্টিপাতের পরিমান দেশের একেক জায়গায় একেক রকম।

প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য হলো বৃষ্টিপাতের ফলে সৃষ্ট অসম জলের প্রবাহ বিভিন্ন নদী-নালার মধ্যে সমবন্টন নিশ্চিত করা। অর্থাৎ জলের সংকট আছে এমন স্থানগুলোতে জলের সংস্থান নিশ্চিত করা। অথচ প্রকল্পটি নিয়ে পরিবেশবাদী এবং জল বিশেষজ্ঞগন বেশ আপত্তি জানিয়ে আসছেন প্রথম থেকেই। একইসঙ্গে এ প্রকল্পটি একটি মারাত্বক পরিবেশগত দূর্যোগের কারন হতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করছেন তারা। বাজপেই-এর পরবর্তী সরকার হিসাবে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ সরকার ২০০৪ সালে ক্ষমতায় আসার পর এই প্রকল্পটি স্থগিত করে। বর্তমানে বিজেপি সরকার আবারো নির্বাচিত হবার পর প্রকল্পটি নতুন করে প্রান ফিরে পায়।

জল-সম্পদ-মšী¿ উমা ভারতি প্রকল্পটির দ্রুত বাস্তবায়নর জন্য পদক্ষেপ গ্রহনের আহ্বান করে বলেন, “আগামি ৭ থেকে ১০ বছরের মধ্যে সকল (৩০টি) নদীগুলোর সংযুক্তিকরন এই প্রকল্পের আওতায় শেষ হবে, যাতে রাজ্যগুলো একমত পোষন করেছে।” তিনি আগামী ২০শে নভেম্বর তিনদিনব্যাপী একটি আলোচনা সভার আহবায়ন করেছেন, যার মধ্যে একদিন শুধু নদী সংযুক্তিকরন প্রকল্পটি নিয়েই আলোচনা হবে। জলসম্পদ মন্ত্রনালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, “এই কার্যপ্রক্রিয়া সম্পর্কে পরিবেশবীদ এবং সুশীল সমাজের পক্ষ থেকে যে উদ্বেগ ও আশঙ্কা জানিয়েছে তা নিরসনের একটি চেষ্টা করা হবে। ”

সারা দেশে এই ৩০টি নদী সংযুক্তকরন প্রকল্পটি সম্প্রসারিত, এর মধ্যে ১৬টি স্থাপন করা হবে পেনিনসুলা অঞ্চলে আর বাকি ১৪টি গঠিত হবে হিমালয় অঞ্চল জুড়ে, যার ফলে ১৭০ বিলিয়ন কিউবিক মিটার জল সম্প্রসারিত হবে বিভিন্ন নদীতে। এছাড়াও একাধিক অন্যান্য অন্তরাজ্য নদীসমূহের সংযুক্তিকরন প্রকল্পটিতে পর্যায়ক্রমে প্রক্রিয়াধীন অবস্থায় রয়েছে।

5 comments

  1. What is as bad as the problems already stated, is the poor thought and the lack of it practically in even conceiving such a project.
    Do they not understand how changing drainage at such a vast scale is not a fucking experiment.
    not just forests and people, under studied landforms that hold key evidence to the EARTH’S (no, not just India’s) geological, faunal, floral past will be lost, with canals going through fossil rich layers in the north Telangana region, Orissa and eastern coast area.
    Habitat connectivity will be lost for animals and plants who disperse through habitats. I can provide literature supporting the evidence of rivers acting to barriers in gene flow in large and small organisms. In any case the dry regions have mostly been canal fed for agriculture, thus completely overlooking the plight of savanna habitats in India and the tribes who have been using them for fodder for hundreds of years.
    The utter lack of thought of changing drainage in the Himalayan foothills is even more appalling. This is region undergoing prolonged rock weathering and erosion for the last 15 MILLION years, a through analysis of sedimentation simulations along existing and proposed flows needs to be examined. Prevent floods is a clear farce. The yamuna-rajasthan connection will make the country’s iconic area nothing like it was. The desert is connected in one big mass, if sutured we will loose the opportunity to study the life, people and organisms that inherit the area as it were for last MILLION years atleast!

  2. Pingback: 13 Feb. Science 8 Finishing environmental survey report, testing map, beginning Water Cycle project | Dr. Frazier's Middle School Science Blog

  3. Pingback: Tibet Que s'est-il passé au Troisième Pôle en 2014 ? - Tibet

  4. the advantage and disadvantages are comparative – be proactive, be positive and do not bother about the people (environmentalist majority of them are publicity monger) …. look at the larger benefit … these publicity monger come with problems (escalating it for their publicity) never try to find good solutions for it

  5. Pingback: India refuses to share river water with Bangladesh | Rehmat's World

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.